আমার সংগীত সাধনা - ১

আমি তখন নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র। আমার এক অনুজা সংগীত চর্চা করতো, মূলত তাকে তালিম দিতেই বাড়িতে নিয়মিত গানের ওস্তাদ আসতো। মাঝে মধ্যে অনুজাকে সঙ্গে করে সংগীত বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতাম, তার গান শেখা অব্দি সেখানে বসে থাকতাম, গান শেখা শেষ হলে তাকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে আসতাম। গানের ওস্তাদকে সবাই মামা বলে সম্বোধন করতো তাই সকলের দেখাদেখি আমিও মামা বলে সম্বোধন করতাম। তিনি অনেক আন্তরিক ও স্নেহপরায়ণ মানুষ ছিলেন।
অনুজা গানের তাল-লয়-রাগ থেকে শুরু করে রবীন্দ্র-নজরুল-আধুনিক গান শিখতো আর আমি পাশে বসে বসে সংগীত অনুরাগী শ্রোতার মতন একাগ্র চিত্তে শুনতাম। সংগীতের প্রতি আমার মনোযোগ দেখে একদিন গানের ওস্তাদ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ''কি গান শিখবে?'' আমি মৃদু হেসে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়েছিলাম। হারমোনিয়ামে আঙ্গুল রেখে যেই সারেগামা শুরু করেছি অমনি পাশ থেকে একজন বলে উঠলো, এই কর্কশ কন্ঠীকে গান না শিখিয়ে ডুগি-তবলা বাঁজানো শেখান তাও একটা কাজের কাজ হবে, অন্তত (অনুজাকে ইঙ্গিত করে) ওর গানের সাথে বাঁজাতে পারবে।
আশাহত আমি হারমোনিয়াম ছেড়ে ডুগি-তবলা বাঁজানো শেখা শুরু করলাম। খুব মনোযোগ দিয়ে শিখতে লাগলাম সেই সাথে সকাল সন্ধ্যায় সাধনা-ও করতে লাগলাম, ''তেড়ে কেটে তাকো। তাকো, তাকো, তেড়ে কেটে তাকো।''
একদিন সন্ধ্যায় গানের ওস্তাদ আসলো, আমি খাটের নিচ থেকে ডুগি-তবলা বের করেই মর্মাহত। ডুগি-তবলা দুটোরই মাঝ বরাবর ফাঁড়া। বুঝতে আর বাকি রইলো না, কেউ একজন ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার সংগীত সাধনায় বাগড়া দিতেই ধারালো কিছু দিয়ে ডুগি-তবলা ফেঁড়ে রেখেছিলো। 
অবশেষে ঈর্ষাকারীর জয় হলো, তবলা বাঁজানো শিখতে গিয়ে, তবলা ফাঁটানোর অপবাদ মাথায় নিয়ে সংগীত সাধনার পাঠ চুকালাম। 
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর

Celebrating 14 Years of Toons Mag: Championing Freedom of Expression

Welcome to Cartoonist Network: A Haven for Creative Minds